শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোরে উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের পশ্চিম রাজাপুর গ্রামে নিজ বসতঘরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দা জব্দ করেছে এবং অভিযুক্ত স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়েছে।
নিহত মো. রাব্বি মণ্ডল (৩২) পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের মো. নজরুল মণ্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় একজন বালু ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অভিযুক্ত স্ত্রী ফারজানা আক্তার (২৭) বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই রাব্বি ও তাঁর স্ত্রী ফারজানার মধ্যে তুমুল কথাকাটাকাটি ও কলহ চলছিল। এরই জের ধরে শুক্রবার ভোরের দিকে স্বামী ঘুমিয়ে পড়লে ফারজানা ধারালো দা দিয়ে তাঁর গলায় কোপ দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই রাব্বির মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা নজরুল মণ্ডল জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ফারজানার বাবা ফয়জার ফোন করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ও মারামারির কথা জানান। খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে এসে দেখি বিছানার ওপর ছেলের রক্তভেজা নিথর দেহ পড়ে আছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দিন দশেক আগে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েও রাব্বি লাঞ্ছিত হয়েছিল। পরিকল্পনা করেই আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে, আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ফারজানা শ্রীপুর উপজেলার আমতৈল গ্রামে তাঁর বাবার বাড়িতে চলে গেলে খবর পেয়ে পুলিশ সেখান থেকে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মাগুরা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং গভীর তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিবেদক: কাজী সাইমুম সিরাজ, মাগুরা
