আজকের তারিখ লোড হচ্ছে...
সাম্প্রতিক:
আক্ষরিক নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম...
> সম্পাদকীয়

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর: দলীয় বৃত্তের বাইরে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মাতৃভাষা বাংলায় দেওয়া ভাষণটি আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে সরকারি দল ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে স্বাগত জানালেও দেশের ভেতরের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম বিশ্লেষণে এটি নিয়ে নানামুখী সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, এই ভাষণ ও তার পরবর্তী প্রচারণায় জাতীয় ঐক্যের চেয়ে অতীত বিভাজন এবং দলীয় বন্দনার আবহ প্রকাশ পেয়েছে। আমাদের সংবিধানের মূল চেতনা হলো জনগণের মধ্যে সমতা, ঐক্য এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুদৃঢ় করা। এই সাংবিধানিক কাঠামোর আলোকে বলা প্রয়োজন, বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য কোনো নির্দিষ্ট দল বা পরিবারের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে, তা সমগ্র রাষ্ট্র ও জনগণের সামষ্টিক আকাঙ্ক্ষার একক প্রতিচ্ছবি হওয়া বাঞ্ছনীয়।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও জাতীয় বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে, যা ইতিবাচক। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে জোরালো অবস্থান এবং জলবায়ু অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে প্রস্তাবনা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিরই প্রতিফলন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের যেকোনো বড় অর্জনকে ঘিরে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে বন্দনা ও স্তুতির রেওয়াজ রয়েছে, তা এবারও লক্ষ্য করা গেছে। সরকারি মুখপাত্রদের বক্তব্যে আন্তর্জাতিক কূটনীতির চেয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সমীকরণ এবং দলীয় ধারাবাহিকতার বিষয়টিকে যেভাবে সামনে আনা হচ্ছে, তা রাষ্ট্রীয় অর্জনকে একমুখী করে ফেলার ঝুঁকি তৈরি করে। বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষ যখন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন থেকে মুক্তি খোঁজার চেষ্টা করছে, তখন যেকোনো রাষ্ট্রীয় ফোরামে এমন বক্তব্য বা তৎপরতা পরিহার করা উচিত যা নতুন করে সমাজে বিভেদ বাড়াতে পারে
একটি কল্যাণকামী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের জন্য সব ধরনের দলীয় ও ব্যক্তিগত সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠার কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে যে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, তা বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের অভ্যন্তরে আগে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান থাকবে, আন্তর্জাতিক মঞ্চের অর্জনগুলোকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে বা বন্দনার বেড়াজালে বন্দি না করে, সেগুলোকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অগ্রগতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করুন। একই সাথে, বিরোধী মতামতকে শত্রুতা হিসেবে না দেখে যৌক্তিক সমালোচনা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের সব নাগরিকের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করাই হোক বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

প্রতিবেদক: সম্পাদকীয়
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন