আজকের তারিখ লোড হচ্ছে...
সাম্প্রতিক:
আক্ষরিক নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম...
> সম্পাদকীয়

মূল্যস্ফীতির যাতাকল ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ: জনকল্যাণই হোক রাষ্ট্রীয় নীতির মূল ভিত্তি

বর্তমান বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এক গভীর ও বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। দেশের বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এর ওপর আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম যেভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের কাঁধে এক নতুন বোঝা হিসেবে চেপে বসেছে। আমাদের সংবিধানের মৌলিক দর্শন হলো জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, সাম্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান এই কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মধ্য ও নিম্নবিত্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। দেশের কল্যাণ এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের স্বার্থে এই মুহূর্তে এই সংকটের একটি সুষম ও স্থায়ী অর্থনৈতিক সমাধান খোঁজা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কোনো একটি নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের চেয়েও এখন বড় সংকট হলো সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দামের কারণে সাধারণ পরিবারের মাসিক বাজেট সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয় এবং কৃষিতে সেচ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের পেছনে কেবল বৈশ্বিক বাজারই দায়ী নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের অভাব, দুর্বল বাজার তদারকি এবং অসৎ সিন্ডিকেটের কারসাজিও বড় ভূমিকা রাখছে। রাজনৈতিক দলগুলো এই জনদুর্ভোগকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়িতে লিপ্ত হলেও, সাধারণ নাগরিকের স্বস্তি ফেরানোর বাস্তবসম্মত কোনো রূপরেখা কারও এজেন্ডায় দেখা যাচ্ছে না। একটি নিরপেক্ষ ও জনকল্যাণমুখী গণমাধ্যম হিসেবে আমরা মনে করি, সংকটের এই সময়ে দোষারোপের রাজনীতি পরিহার করে মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
অর্থনৈতিক এই মহাসংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে এখনই কিছু সাহসী ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রথমত, সরকারি বিপণন সংস্থার মাধ্যমে স্বল্পমূল্যের পারিবারিক কার্ডের পরিধি আরও বাড়াতে হবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বরাদ্দ বৃদ্ধি করে নিম্নআয়ের মানুষকে সরাসরি খাদ্য সহায়তা প্রদান করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার তদারকি সেলকে কেবল মৌখিক হুঁশিয়ারির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, কৃত্রিম সংকট পরিচালনাকারী মজুদদার ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, উৎপাদনশীল খাত ও কৃষিতে জ্বালানি ও সারে ভর্তুকি বজায় রাখতে হবে, যেন অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যাহত না হয়।
রাষ্ট্র পরিচালনার মূল লক্ষ্যই হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ। আমরা আশা করি, সরকার কোনো রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে, সংবিধানের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে দেশের সাধারণ মানুষের জীবন সহজ করতে অবিলম্বে একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়ন করবে।

লেখক: সম্পাদকীয়
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন