জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি) মোস্তফা জামান। অনুষ্ঠিতব্য সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অর্থ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এবং আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেবেন। এতে এলজিইডিকে বিসিএস ক্যাডারভুক্ত করার প্রশাসনিক যৌক্তিকতা, বিদ্যমান জনবল কাঠামো, সরকারের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠনের বিভিন্ন দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া অধিদপ্তরটিকে পৃথক বিসিএস প্রকৌশল ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করার প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং ২০০৬ সালে অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে নীতিগত সম্মতি প্রদান করেছিল। তবে নানা প্রশাসনিক জটিলতায় প্রস্তাবটি দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকে। সম্প্রতি গত ১৯ জুলাই এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্থানীয় সরকার বিভাগে পৃথক ক্যাডার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পুনরায় প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন এবং শৃঙ্খলা ও তদন্ত ইউনিট) আবদুল বারেক হাওলাদার জানান, গণপূর্ত, সড়ক ও জনপথ এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের মতো এলজিইডির প্রকৌশলীদের কাজের পরিধি ও অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত ব্যাপক। দেশে গণপূর্ত বা অন্যান্য প্রকৌশল ক্যাডার থাকলেও এলজিইডির বিপুলসংখ্যক প্রকৌশলী এতদিন ক্যাডার কাঠামোর বাইরে ছিলেন।
মেধাবী প্রকৌশলী ধরে রাখা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার সংকট: ক্যাডারভুক্তির প্রস্তাবনায় এলজিইডি উল্লেখ করেছে, দেশের সামগ্রিক টেকসই উন্নয়ন, গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ, দারিদ্র্য বিমোচন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারিগরি সহায়তা দিতে সংস্থাটি মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। তবে বর্তমানে সংস্থাটি নন-ক্যাডার প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হওয়ায় বিসিএস থেকে মেধাবী প্রকৌশলীদের ধরে রাখা এবং অভিজ্ঞ জনবলের ক্যারিয়ার প্যাথ নিশ্চিত করতে মারাত্মক প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বর্তমানে এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে প্রধান প্রকৌশলী পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৬০০টি পদ রয়েছে। পৃথক বিসিএস ক্যাডার গঠিত হলে অতিরিক্ত কোনো আর্থিক সংস্থান ছাড়াই বিদ্যমান কাঠামোর ভেতরেই ক্যাডার পদ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ বিবেচনায় অন্যান্য যেকোনো ক্যাডারভুক্ত প্রকৌশল সংস্থার চেয়ে এলজিইডির উন্নয়ন কর্মসূচির পরিধি বহুগুণ বড়।
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এলজিইডির প্রকৌশলীদের ক্যাডারভুক্ত করার দাবিটি যৌক্তিক। তবে সরকার যেখানে সিভিল সার্ভিস ক্যাডারের সংখ্যা পুনর্বিন্যাস বা সংকুচিত করার কথা ভাবছে, সেখানে নতুন ক্যাডার যুক্ত করার সিদ্ধান্তটি নীতিগতভাবে বিশদ আলোচনার দাবি রাখে।
বিসিএস ক্যাডারে অন্তর্ভুক্তি চূড়ান্ত হলে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই সরকারি প্রকৌশল সংস্থার কর্মকর্তাদের কাজের গতিশীলতা ও পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সংস্থার সাথে প্রশাসনিক সমন্বয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
