রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০০ সালে তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই গুচ্ছগ্রামটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর প্রায় তিন দশক পার হতে চললেও স্থায়ী বাসস্থানের অধিকারপ্রাপ্ত সরকারি এই আশ্রয়ন প্রকল্পে আজ পর্যন্ত বিন্দুমাত্র উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
অবহেলিত এই জনপদে যাতায়াতের জন্য নেই কোনো পাকা বা চলাচলের উপযোগী রাস্তাঘাট। নেই জমা পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বর্ষাতেই পুরো গুচ্ছগ্রামজুড়ে সৃষ্টি হয় স্থায়ী বিষাক্ত জলাবদ্ধতা। নর্দমার পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির সাথেই বসবাস করতে হচ্ছে শিশুসহ সব বয়সের মানুষকে, যার ফলে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন সংক্রামক চর্ম ও পানিবাহিত রোগব্যাধি।
পরিবেশগত এ দুর্ভোগের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য গ্রামে নেই কোনো গভীর নলকূপ। স্থানীয় একটি মাত্র পুকুর থাকলেও সেখানে গোসল ও গৃহস্থালি কাজের জন্য কোনো পাকা ঘাট নির্মাণ করা হয়নি, ফলে নারী ও শিশুদের নিত্যদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
ভাঙাচোরা ঘরের করুণ চিত্র তুলে ধরে বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই চালের ফুটো দিয়ে হু হু করে পানি পড়ে ঘরের ভেতরে থাকা বিছানা-পত্র ভেসে যায়। আবার অতিরিক্ত বৃষ্টির পানির তোড়ে মাটির সুড়ঙ্গ তৈরি হয়ে বহু ঘরের ভিত ধসে পড়ার বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছেছে। সামান্য ঝোড়ো বাতাসেই ঘরের জরাজীর্ণ চাল উড়ে যাওয়ার আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় তাঁদের।
স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা বারবার শুধু মিথ্যা আশার বাণী শুনিয়ে গেলেও কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন করেননি বলে ক্ষোভের সাথে জানান ভুক্তভোগীরা। উল্টো ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক এই সরকারি চালার ঘরগুলো থেকে অন্যায়ভাবে হোল্ডিং ট্যাক্স ও ফি আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিয়মানুযায়ী হোল্ডিং স্মার্ট কার্ডের ফি ২০০ টাকা হলেও মাঠ পর্যায়ে প্রতি পরিবার থেকে জোরপূর্বক ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। নিঃস্ব এসব পরিবারের ওপর এমন অন্যায় ফি আদায়কে ‘জুলুম’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তারা।
দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে, মাথার ওপর নিরাপদ টেকসই ছাদ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যাতায়াতের রাস্তা ও বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান এবং জেলা-উপজেলা প্রশাসনের জরুরি মানবিক হস্তক্ষেপ ও কঠোর আশু পদক্ষেপ কামনা করেছেন চরম দুর্দশায় দিন কাটানো এ গুচ্ছগ্রামবাসী।
প্রতিবেদক: সাধন সাহা জয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
