রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের হাজারবিঘী গ্রামে 'ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী'-র ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অপহরণের শিকার শিশু নাফিসের পিতা রুবেল আলী, স্থানীয় অধিবাসী ওয়াসিম আলী, হাবিবুর রহমান, মো. আবুল কাশেম, মোছা. মরিয়ম বেগম ও মোছা. তোহিদা বেগমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মানববন্ধনে সংক্ষুব্ধ বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। বক্তারা দাবি করেন, ২০১৭ সালে শাহবাজপুর ইউনিয়নের পারদিলালপুর গ্রামের একই পরিবারের দুই ভাই মিজানুর রহমান ও রেজাউল করিমকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের পর ‘ঈগল হান্ট’ শীর্ষক বিতর্কিত অভিযানে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। ওই জোড়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যেও আবুল কালাম আজাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল বলে মানববন্ধনে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সেই অপরাধ চক্রের ধারাবাহিকতায় অতি সম্প্রতি ১১ মাস বয়সী কোলের শিশু নাফিসকে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়। তবে ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো ও সময়োপযোগী তৎপরতায় শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
শিশু নাফিস অপহরণের ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করলেও কথিত মূলহোতা ও মূল পরিকল্পনাকারী আবুল কালাম আজাদ এখনো অধরা রয়ে গেছেন।
মানববন্ধনে স্থানীয়রা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে ও নিজের অপরাধ ঢাকতে ভুয়া ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ের আশ্রয় নিচ্ছেন। তাঁর অপসাংবাদিকতার ভুয়া পরিচয়ের বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনার জোর দাবি জানান বক্তারা।
শিশু নাফিস অপহরণ ও পাচারচেষ্টার সাথে জড়িত আবুল কালাম আজাদসহ চক্রের প্রতিটি সদস্যকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আকুল হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার এবং এলাকাবাসী।
প্রতিবেদক: সানাউল্লাহ সুমন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
