সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের এক নীতি নির্ধারণী সভায় গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে এই চারটি ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন (লেটার অব ইনটেন্ট বা এলওআই) প্রদান করা হয়।
অনুমোদন পাওয়া ডিজিটাল ব্যাংকগুলো হলো— ভুটানের ডিকে ব্যাংকের উদ্যোক্তায় 'ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান', বিকাশের শেয়ারধারীদের 'বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক', বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে 'নোভা ডিজিটাল ব্যাংক' এবং রবির মূল প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা লিমিটেডের উদ্যোক্তায় 'বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক'। এ ছাড়া পূর্বে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া 'কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক'-কেও চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার জন্য এলওআই দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
কেমন হবে ডিজিটাল ব্যাংকের অবকাঠামো: বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নীতিমালা অনুযায়ী, একটি ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের জন্য সর্বনিম্ন ৩০০ কোটি টাকা মূলধনের প্রয়োজন হবে। এটি প্রচলিত ব্যাংকের বিকল্প নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও শাখাবিহীন পরিপূরক ডিজিটাল ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। ২৪ ঘণ্টা সচল থাকা এই ব্যবস্থায় জাতীয় পরিচয়পত্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘরে বসেই মুহূর্তের মধ্যে ব্যাংক হিসাব খোলা, হিসাব পরিচালনা, লেনদেন ও ঋণ সুবিধা নেওয়া যাবে।
গ্রাহকদের সুবিধার জন্য ভার্চ্যুয়াল কার্ড ও কিউআর (QR) কোডের সুবিধা থাকবে। লেনদেনের জন্য গ্রাহকেরা অন্যান্য সাধারণ ব্যাংকের এটিএম বুথ কিংবা এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবেন। ব্যাংক পরিচালনায় উদ্যোক্তাদের অর্ধেকের প্রযুক্তি ও সাইবার আইনে অভিজ্ঞতা এবং বাকি অর্ধেকের ব্যাংকিং ও ই-কমার্স খাতে দক্ষতা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
গ্রাহকরা কী কী সেবা পাবেন এবং কোন বিধিনিষেধ থাকছে: বর্তমানে চালু থাকা বিকাশ, নগদ কিংবা রকেটের মতো মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) মূলত ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি অংশ মাত্র। তবে অনুমোদিত ডিজিটাল ব্যাংকগুলো আমানত সংগ্রহ এবং জামানতবিহীন ঋণ বিতরণের সুবিধা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসেবে কাজ করবে।
- ক্ষুদ্র ও জামানতবিহীন ঋণ: দেশের কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (CMSME) খাতের ব্যবসায়ী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যারা এখনো প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের বাইরে রয়েছে, তাদের দ্রুত ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) ক্রেডিট স্কোরিং পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো জামানত ছাড়াই এসব ছোট ঋণ বিতরণ করা সম্ভব হবে।
- যেসব সেবা দেওয়া যাবে না: ডিজিটাল ব্যাংক কোনো বড় বা মাঝারি শিল্পে বড় আকারের অর্থায়ন (করপোরেট লোন) করতে পারবে না। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোনো ঋণপত্র (এলসি - Letter of Credit) খোলার অনুমতি এই ব্যাংকগুলোকে দেওয়া হয়নি।
অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারে প্রভাব: বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানিয়েছেন, উচ্চ পরিচালন ব্যয় ও অবকাঠামোগত সীমার কারণে প্রচলিত ব্যাংকগুলো প্রান্তিক অঞ্চলে পৌঁছাতে না পারায় ডিজিটাল ব্যাংক এই বড় শূন্যতা পূরণ করবে।
নীতিমালা অনুসারে, লাইসেন্স পাওয়ার পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে এসব ডিজিটাল ব্যাংককে দেশের পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ছাড়তে হবে। আইপিওর আকার হতে হবে উদ্যোক্তাদের প্রাথমিক মূলধনের সমান। পাশাপাশি কোম্পানি আইন মেনে প্রচলিত ব্যাংকের মতোই বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (CRR) ও স্ট্যাচুটরি লিকুইডিটি রেশিও (SLR) বজায় রাখতে হবে।
প্রতিবেদক: বিশেষ প্রতিবেদক
