সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ঘুন্টি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে যাত্রী নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পাটগ্রাম উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিল। অটোরিকশাটি মহাসড়কের ঘুন্টি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক (পাটগ্রাম) থেকে আসা বুড়িমারী স্থলবন্দরগামী একটি পণ্যবাহী ট্রাক হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ট্রাকটি সরাসরি অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং রাস্তার পাশের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ে অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ২ জন যাত্রী প্রাণ হারান। এ সময় অটোরিকশার চালক ও পথচারীসহ অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং খবর পেয়ে পাটগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তাকীন নামের আরও একজনের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযান ও প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালে একে একে আরও ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়, ফলে এ দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ জনে।
পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জানান, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি দুইজনকে পাটগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বা আহতদের সবার পূর্ণাঙ্গ নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, নিহত ও আহতদের প্রায় সকলেই স্থানীয় পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাটগ্রাম থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করার প্রক্রিয়া চলছে। সড়ক দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হলেও পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রতিবেদক: মুনতাসীর আলিফ, লালমনিরহাট
