আজকের তারিখ লোড হচ্ছে...
সাম্প্রতিক:
আক্ষরিক নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম...
> অর্থনীতি

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দিলে মিলবে ৫ শতাংশ করছাড়: এড়াতে হবে যেসব ভুল


চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রবর্তিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আয়কর রিটার্ন জমা দিলে নিট পরিশোধযোগ্য করের ওপর ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা (যেটি কম) করছাড় পাওয়ার বিধান রয়েছে। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এই সুবিধা পাওয়ার শেষ দিন।

এনবিআরের সময়সূচি অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর (দ্বিতীয় প্রান্তিকে) রিটার্ন জমা দিলে কোনো প্রণোদনা পাওয়া যাবে না। জানুয়ারি থেকে মার্চে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের অতিরিক্ত ২ শতাংশ বা সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা জরিমানা গুণতে হবে। আর এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ বা সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।

তবে সারা বছর নিয়ম মেনে অগ্রিম কর, উৎসে কর (টিডিএস) বা পেরোল ট্যাক্স পরিশোধ করে আসা করদাতাদের ক্ষেত্রে এই ছাড়ের হিসাব ভিন্ন হবে। পুরো বছরের মোট করের ওপর এই ৫ শতাংশ ছাড় প্রযোজ্য নয়; বরং অগ্রিম কর বাদ দেওয়ার পর রিটার্ন দাখিলের সময় যে টাকা পরিশোধ করতে বাকি থাকে (ট্যাক্স পেয়েবল), কেবল তার ওপরই ৫ শতাংশ ছাড় মিলবে। ফলে ব্যাংকের এফডিআর, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বা বেতন থেকে আগেভাগেই কর কেটে নেওয়া করদাতাদের ক্ষেত্রে এই সুবিধার পরিমাণ বেশ কম বা ক্ষেত্রবিশেষে শূন্য হতে পারে।

যেমন—কারো বার্ষিক করযোগ্য আয় ৭ লাখ টাকা হলে প্রথম ৪ লাখ টাকা করমুক্ত। অবশিষ্ট ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে মোট কর দাঁড়ায় ৩০ হাজার টাকা। তিনি যদি ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দেন এবং পূর্বে কোনো অগ্রিম কর কাটা না হয়ে থাকে, তবে ৩০ হাজার টাকার ৫ শতাংশ অর্থাৎ ১,৫০০ টাকা ছাড় পেয়ে ২৮, ৫০০ টাকা পরিশোধ করবেন। কিন্তু এই ৩০ হাজার টাকার পুরোটাই যদি তিনি আগেই উৎসে কর হিসেবে দিয়ে থাকেন, তবে রিটার্ন জমার সময় বাড়তি কোনো প্রদেয় কর না থাকায় নতুন করে এই ছাড়ের সুবিধা পাবেন না।

অন্যদিকে, শুধু সময়মতো রিটার্ন জমা দিলেই চলবে না; এনবিআরের স্বয়ংক্রিয় ‘রিস্ক-বেইজড’ অডিট এড়াতে রিটার্নে প্রদর্শিত তথ্যের সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। আয়কর বিভাগ অডিটের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৯টি বিষয় চিহ্নিত করে চলতি করবর্ষে প্রায় ৯২,৮৪৯টি রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচিত করেছে।

রিটার্ন জমায় যেসব তথ্য ও অসঙ্গতি এড়াতে সতর্ক থাকতে হবে:

  • আয় ও ব্যাংক লেনদেনের অমিল: ঘোষিত আয়ের চেয়ে ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক বেশি অর্থ লেনদেন থাকলে তার সুস্পষ্ট উৎস (যেমন: মূলধন, ঋণ বা সম্পদ বিক্রির অর্থ) প্রদর্শনের প্রমাণ থাকতে হবে।
  • আয় ও সম্পদের অসামঞ্জস্য: ফ্ল্যাট, জমি, বাড়ি, গাড়ি কেনা, শেয়ারবাজার, এফডিআর বা ডিপিএসে বিনিয়োগের বিপরীতে ঘোষিত আয়ের সামঞ্জস্য থাকা আবশ্যক।
  • পরিবারের লেনদেন ও বিদেশ ভ্রমণ: নির্ভরশীলের নামে অতিরিক্ত সম্পদ, পরিবারে অস্বাভাবিক অর্থ স্থানান্তর, ক্রেডিট কার্ডের অতিরিক্ত ব্যয় এবং বিদেশ ভ্রমণের ব্যয়ের উৎস স্পষ্ট করতে হবে।
  • ব্যবসায়িক অসঙ্গতি: ব্যবসা চালু রেখে বছরের পর বছর লোকসান দেখানো কিংবা বড় ব্যাংক লেনদেনের বিপরীতে কম করযোগ্য আয় দেখানোর বিষয়টিও অডিটের আওতায় আসতে পারে।

ট্যাক্স বার অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনি ও হিসাবসংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে সঠিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে রিটার্ন প্রস্তুত করা উচিত। তবে কোনো রিটার্ন অডিটে নির্বাচিত হলেও উপ-কর কমিশনারের শুনানিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করে বক্তব্য দেওয়ার আইনি সুযোগ করদাতার থাকবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন