বুধবার দুপুরে কামারখন্দ উপজেলার বাজার ভদ্রঘাট পালপাড়ায় সরেজমিনে দেখা যায়, কারিগরদের যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। পরিবার-পরিজনের পাশাপাশি অন্য এলাকা থেকে লোক এনে দিনরাত চলছে কাজ। খড়, কাঠ, বাঁশ ও মাটির প্রাথমিক কাজ শেষে এখন ধুম পড়েছে রঙ-তুলির আঁচড়ের।
পালপাড়ার কারিগরেরা জানান, এখানে ১৩টি পরিবার যুগ যুগ ধরে প্রতিমা তৈরির কাজের সাথে যুক্ত। গত বছরের তুলনায় এবার এখানে ৩৫টি প্রতিমা বেশি তৈরি হচ্ছে, যার মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২০টিতে। আকার ও সৌন্দর্যভেদে প্রতিটি প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে ১৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকায়।
প্রতিমা শিল্পী দীলিপ পাল জানান, তাদের তৈরি প্রতিমা স্থানীয় চাহিদার সীমা ছাড়িয়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা এবং টাঙ্গাইল ও জামালপুরে সরবরাহ করা হয়। এরই মধ্যে অধিকাংশ প্রতিমার বিক্রিও সম্পন্ন হয়েছে।
তবে আনন্দের এই ব্যস্ততার মাঝে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যাতায়াত ব্যবস্থা। কারিগর জিতেন পাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পালপাড়া থেকে প্রতিমা বের করার মতো প্রশস্ত সড়ক নেই। সংকীর্ণ পথ দিয়ে কষ্ট করে বের করার সময় অনেক সময় প্রতিমার অঙ্গহানি ঘটে। এতে গুণগত মান নষ্ট হয় এবং ক্রেতাদের অসন্তোষ ও নানা কটু কথা শুনতে হয়। পালপাড়া থেকে মূল রাস্তা পর্যন্ত মাত্র ২৫০ মিটারের একটি ছোট সড়ক নির্মাণ করে দিলে এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটত।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাজার ভদ্রঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মির্জা আব্দুস সামাদ জানান, পালপাড়ার সার্বিক বিষয়ে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা সব সময় খোঁজখবর রাখছেন।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শম্ভুনাথ দাস জানান, চলতি বছর কামারখন্দ উপজেলায় ২১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে এ বছরের দুর্গাপূজা শেষ হবে। এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে ‘ঘটে’ এবং গমন হবে ‘দোলায়’।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী জানান, দুর্গাপূজা সার্বিক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. বিপাশা হোসাইন জানান, গত বছর আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সম্প্রতি ওসি সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে পালপাড়া পরিদর্শন করা হলেও এবার রাস্তা সংক্রান্ত কোনো সমস্যার কথা কেউ জানায়নি। তবে কারিগরেরা লিখিত বা মৌখিকভাবে সমস্যাটির কথা জানালে তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রতিবেদক: কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ)
