গত শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা তিনটার দিকে গুলিস্তানে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মতিঝিল জোনের পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে দলটির কার্যালয় থেকে সাংবাদিক নেতাসহ উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের আটক করে পল্টন, শাহজাহানপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) সাকিবুল আলম ভূঁইয়া জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে ২৮৯ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে যাঁরা জাসদের প্রকৃত নেতা-কর্মী, তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে তাঁদের আড়ালে অন্য কোনো নিষিদ্ধ বা অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তি থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক সদস্য জাসদ কার্যালয়ে গোপনে একত্র হয়েছেন এবং ভেতর থেকে 'জয় বাংলা' স্লোগান দেওয়া হয়েছে—এমন খবরের সত্যতা নিশ্চিত হতেই পুলিশ এ ব্যবস্থা নেয়।
এদিকে জাসদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতির তথ্য সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভাটি পূর্বনির্ধারিত ছিল এবং ডিএমপি কমিশনার, মতিঝিল জোনের ডিসি ও পল্টন থানার ওসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেই এ সভার আয়োজন করা হয়। জাসদ নিবন্ধিত ও সক্রিয় রাজনৈতিক দল, যার রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই।
জাসদের দাবি, সভায় তাঁদের নিবন্ধিত সাড়ে চার শতাধিক নেতা-কর্মী অংশ নিয়েছিলেন। সভা চলাকালে পুলিশের উপস্থিতিতে বাইরের একটি রাজনৈতিক দলের বেশ কিছু কর্মী অনধিকার প্রবেশ করে মব সৃষ্টি করে এবং নেতা-কর্মীদের লাঞ্ছিত করে। সভার আড়ালে ভিন্ন সংগঠনের কার্যক্রমের যে কথা ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সভাপতি ও জাসদ সমর্থক আবু জাফর সূর্যও রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় পরিচয় ও দলীয় ভূমিকা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।
প্রতিবেদক: ঢাকা প্রতিনিধি