কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ব্যবসায়ীর একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার নেপথ্যে আইফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা সামনে এসেছে। আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার বিরোধিতায় ওই কিশোরকে লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেফতার তিন আসামি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে কুমিল্লার আমলি আদালত-৬-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সুলতানা মলির খাসকামরায় তারা এই জবানবন্দি দেয়। আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) এবং মো. কামরুল হাসান। এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অপর আসামি মো. সিয়াম (১৯) স্বীকারোক্তি না দেওয়ায় তার রিমান্ড আবেদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ছেলে। গত শুক্রবার দুপুরে কোটবাড়ি সালমানপুর এলাকা থেকে সে নিখোঁজ হয়। সিসিটিভি ফুটেজে বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে আসামি তুহিনকে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের ‘সানন্দা’ এলাকার দিকে যেতে দেখা যায়।
জবানবন্দিতে আসামিরা জানায়, অপ্রতিমের আইফোন মোবাইলটি ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে তারা বিকেলেই তাকে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায়। ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাঁধা দিলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করে এবং আইফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
একমাত্র সন্তানকে এভাবে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করে আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদক: সুমন আহমেদ, কুমিল্লা

