সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীতে জোয়ারের প্রভাবে গতিশীল পানির তীব্র স্রোত সরাসরি পাড়ে এসে আঘাত করছে। ভাঙনের ফলে অনেক স্থানে গাইড ওয়ালের নিচের মাটি সম্পূর্ণ সরে গিয়ে কাঠামোটি শূন্যে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন উপজেলার হাজার হাজার মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষিপণ্য পরিবহন করা হয়। সড়কটিতে ফাটল দেখা দেওয়ায় চরম আতঙ্ক ও ঝুঁকির মধ্যে যাতায়াত করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, পোল্ডার-৩৩ এর অন্তর্গত চুনকুড়ি ও ভদ্রা নদীবেষ্টিত এ অঞ্চলে নদীভাঙন দীর্ঘদিনের তীব্র সমস্যা। ইতিপূর্বেও নদীর ভাঙনে পোদ্দারগঞ্জ বাজার, ওয়াপদা বাঁধের অংশবিশেষ, বহু বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সরকারি খাতায় এলাকাটি নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের অতি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাঊবো) ব্লক ডাম্পিং ও স্লোপ প্রটেকশনের টেকসই কোনো সুফল মাঠে মিলছে না।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিবারই ভাঙনের পর সাময়িকভাবে জিওব্যাগ বা মাটি ফেলে লোকদেখানো মেরামত করা হয়, যা পরবর্তী জোয়ারেই ধুয়ে যায়। সড়কটির স্থায়ী সুরক্ষায় অবিলম্বে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি কর্মকর্তাদের যৌথ পরিদর্শনের মাধ্যমে স্থায়ী ও কারিগরি প্রযুক্তিনির্ভর বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর জরুরি অর্থ বরাদ্দসহ টেকসই ব্লক ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সমগ্র চালনা-পোদ্দারগঞ্জ সড়কটির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে উপজেলাটির সাথে পোদ্দারগঞ্জের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
প্রতিবেদক: রবিউল ইসলাম, খুলনা
