রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউ এলাকার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুর্ঘটনা ঘটার পর থেকেই রাফিদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। তাঁকে হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি মারা যান।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্বজনেরা জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রাফিদের মাথায় প্রচন্ড আঘাত লাগে। এতে তাঁর মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ হাইপোথ্যালামাস অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মাথার বাম দিকে প্রচুর অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ঘটে। নিউরোসার্জনদের মতে, মস্তিষ্কের একটি বড় অংশ অকেজো হয়ে নিউরনের কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাফিদের চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা ছিল খুবই কম।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রাজশাহীর বিনোদপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাফিদ মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি মোটরসাইকেল হঠাৎ বেপরোয়াভাবে ইউ-টার্ন নেয়। এতে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাফিদ সড়কের পাশে থাকা আইল্যান্ড ও ডিভাইডারের ওপর ছিটকে পড়েন এবং মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান।
দুর্ঘটনার পর পরই সহপাঠী ও স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাফিদকে দেখতে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় রুয়েট প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয় এবং ওই দিন দুপুর সোয়া ১টার দিকে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
রাফিদের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে রুয়েট প্রশাসন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এক অভূতপূর্ব উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তহবিল গঠনের পাশাপাশি অনলাইনে বিস্তৃত ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়। তবে শিক্ষক, সহপাঠী ও স্বজনদের সব প্রার্থনা এবং চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টার পরও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নিহত রাফিদ শাহরিয়ার চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা। তিনি রুয়েটের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের নিয়মিত ছাত্র ছিলেন (শিক্ষার্থী আইডি: ২১০৩০৯৫)।
মেধাবী এই সিএসই শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যুর খবরে রুয়েট প্রাঙ্গণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর আকস্মিক প্রস্থানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। রুয়েট প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরহুম রাফিদ শাহরিয়ারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে।
প্রতিবেদক: মো. গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী
