এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’।
ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ ও অপতথ্য মোকাবিলা: ডিজিটাল প্রযুক্তির অভূতপূর্ব প্রসারের ফলে তথ্যপ্রাপ্তি আগের চেয়ে অনেক সহজ ও দ্রুততর হয়েছে। তবে এর সমান্তরালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যাচাইহীন ভুল তথ্য, গুজব, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য এবং বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এর ফলে ব্যক্তি, সামাজিক জীবন এমনকি রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এমতাবস্থায় ইউনেস্কোর অভিমত, সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের সর্বজনীন প্রবেশাধিকার একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের অন্যতম মূল ভিত্তি। কেবল তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করাই নয়, বরং বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিড় থেকে নির্ভরযোগ্য ও সঠিক তথ্য শনাক্ত করার নাগরিক সক্ষমতা অর্জনই বর্তমান ডিজিটাল যুগে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় তথ্য অধিকার: তথ্য যেকোনো নাগরিকের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অন্যতম মূল ভিত্তি। সরকারি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প কিংবা সেবা খাত সম্পর্কে সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য নাগরিকের নাগালের মধ্যে থাকলে একদিকে গুজব বা অপতথ্য যাচাই করা সহজ হয়, অন্যদিকে সরকারের সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।
তথ্য অধিকার আইন কার্যকর করতে হলে তথ্য প্রকাশের প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ করা, তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সার্বিক ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া জরুরি।
আইন সংশোধন ও তথ্য কমিশন গঠনের তাগিদ: এদিকে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে তথ্য অধিকার আইনকে কার্যকর করতে অনতিবিলম্বে স্বাধীন তথ্য কমিশন গঠন এবং সেখানে যোগ্য ও সম্পূর্ণ নির্দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগের জোর দাবি জানিয়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও তথ্য অধিকার ফোরামের কোর গ্রুপের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার।
সুজনের এই ট্রাস্টি ও প্রধান নির্বাহী বলেন, "তথ্য কমিশনের মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন—এমন যোগ্য ব্যক্তিদেরই দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান ডিজিটাল যুগ ও উদ্ভূত বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য অধিকার আইনটিকে সময়োপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিশীলিত ও পরিমার্জন করা এখন সময়ের দাবি।
মূলত তথ্য অধিকার কেবল কোনো বিশেষ শ্রেণি বা গোষ্ঠীর অধিকার নয়; এটি সচেতন নাগরিক সমাজ গড়ে তোলা, জনগণের অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক জনস্বার্থ সুরক্ষার অন্যতম হাতিয়ার। আজকের আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস সেই অধিকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি সততা ও অখণ্ডতার সাথে সঠিক তথ্য পরিবেশনের গুরুত্বকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
প্রতিবেদক: বিশেষ প্রতিবেদন
