আজকের তারিখ লোড হচ্ছে...
সাম্প্রতিক:
আক্ষরিক নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম...
> পার্বত্য চট্টগ্রাম

দাবি না মানলে পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্ত পরিস্থিতির দায় সরকারকে নিতে হবে: সর্বস্তরের নাগরিক সমাজের হুঁশিয়ারি


পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বেদখল বন্ধসহ বিভিন্ন ন্যায্য দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়িত না হলে যেকোনো অশান্ত পরিস্থিতির জন্য বর্তমান সরকারকেই দায়ভার বহন করতে হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, পার্বত্য চুক্তির পূর্বে যেভাবে ভূমি বেদখল করা হয়েছিল, পরবর্তীতে নানা কৌশলে আরও অধিকতর জমি বেদখল করা হচ্ছে। অবিলম্বে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ, বিদ্যমান চুক্তি ও আইনের পরিপন্থী সরকারি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং সম্প্রতি গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক বিতর্কিত কমিটিগুলো বাতিল করার জোর দাবি জানানো হয়।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙ্গামাটি শহরের রাজবাড়ী রোডস্থ সাবারাং রেস্টুরেন্টে পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ভারত প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোসিত চাকমা বকুল। তিনি তাঁর বক্তব্যে আরও অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে নিজ ভূমিতে সংখ্যালঘুতে পরিণত করার পেছনে বিএনপি দায়ী।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে এ অঞ্চলের সমস্যাকে জাতীয় ও রাজনৈতিকভাবে সমাধানের ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে চুক্তি, বিদ্যমান আইন ও বিশেষ শাসনব্যবস্থার সাথে সাংঘর্ষিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং কার্যক্রমের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক পরিস্থিতি এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, শান্তিময় পার্বত্য চট্টগ্রামের আশায় বিগত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এ অঞ্চলের সর্বস্তরের জনগণ বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করে জাতীয় সংসদে পাঠায়। বিজয়ের পর বিএনপি সরকার রাঙ্গামাটি থেকে নির্বাচিত দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মনোনীত করে। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১০২ দিনের মাথায় তাঁকে ওই মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দিয়ে পার্বত্যবাসীর দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে চরমভাবে পদদলিত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে উত্থাপিত মূল দাবিগুলো: ১. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের স্বার্থে চুক্তি ও বিশেষ শাসনব্যবস্থাসংক্রান্ত আইনের পরিপন্থী সরকারের নেওয়া সকল সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার ও পুনর্মূল্যায়ন করা। ২. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে অন্যত্র পদায়ন করা এবং চুক্তি লঙ্ঘন না করে ওই মন্ত্রণালয়ে অন্য কোনো প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী নিয়োগ প্রদান না করা। ৩. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণসহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া। ৪. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সমস্যাকে রাজনৈতিক উপায়ে টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে সম্প্রতি গঠিত বিতর্কিত কমিটিগুলো পুনর্গঠন ও কার্যকর করা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি নব কুমার চাকমা, অবসরপ্রাপ্ত উপসচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, সাবেক অধ্যাপক মধুমঙ্গল চাকমা এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ইন্টু মনি তালুকদার।

উল্লেখ্য, একই দাবিতে এর আগের দিন গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সর্বস্তরের নাগরিক সমাজের ব্যানারে এক সুবিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয় এবং পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

প্রতিবেদক: মো. জসিম উদ্দিন, রাঙ্গামাটি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন