আজকের তারিখ লোড হচ্ছে...
সাম্প্রতিক:
আক্ষরিক নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম...
> আইনশৃঙ্খলা

মাটি দস্যুদের তাণ্ডব রুখতে কুমিল্লার সদর দক্ষিণে রাতে ইউএনও'র সাঁড়াশি অভিযান: এক্সকাভেটর ও ড্রামট্রাক জব্দ


কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় রাতের আঁধারে কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি কাটার বিরুদ্ধে চরম কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উর্বর কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশ ধ্বংসের অপচেষ্টা রোধে উপজেলার চৌয়ারা ইউনিয়নের পাগলী খাল এলাকায় এক আকস্মিক ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অভিযানকালে অবৈধভাবে মাটি কাটার হাতেনাতে প্রমাণের ভিত্তিতে একটি এক্সকাভেটর (মাটি কাটার ভেকু) এবং একটি ভারী ড্রামট্রাক জব্দ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায়ের সরাসরি নেতৃত্বে এ গভীর রাতের অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম নুরুল আখতার নিলয়, সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল এবং ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা।

স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও অধিবাসীদের তীব্র অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে কৃষিজমির উপরিভাগের অতি প্রয়োজনীয় উর্বর মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটা ও ভরাট কাজে চড়া দামে বিক্রি করে আসছে। এর ফলে একদিকে যেমন আবাদি জমির স্বাভাবিক ফসল উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত অনিয়ন্ত্রিত ও ভারী ড্রামট্রাক এবং ট্রাক্টরের অবাধ চলাচলে গ্রামীণ কোটি টাকার পাকা রাস্তাঘাট ভেঙে ধুলিসাৎ হয়ে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জমির উপরিভাগের অর্গানিক ও পুষ্টিসমৃদ্ধ অংশ কেটে নেওয়ার ফলে জমি তার চিরস্থায়ী উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার দরুন সৃষ্ট প্রকাণ্ড খাদের কারণে বর্ষা মৌসুমে সংলগ্ন জমিতে জলাবদ্ধতা ও আশপাশের বাসাবাড়িতে ভাঙনের চরম ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

অভিযানের পর স্বস্তি প্রকাশ করে স্থানীয় কৃষকেরা জানান, "প্রতিটি এলাকাতেই মাটি ও বালি খেকো চক্র অত্যন্ত সক্রিয়। পাগলী খাল এলাকায় প্রশাসনের এ সময়োপযোগী পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে অবৈধ মাটি খেকোদের প্রতিটি সিন্ডিকেটকে গোড়া থেকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে।"

এলাকার সচেতন মহলের দাবি, রাতের আঁধারে চলা এই মাটি দস্যুতা কেবল একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরো জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এর একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের এমন ঝটিকা ও কঠোর অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

প্রতিবেদক: সুমন আহমেদ, কুমিল্লা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন