অভিযানকালে অবৈধভাবে মাটি কাটার হাতেনাতে প্রমাণের ভিত্তিতে একটি এক্সকাভেটর (মাটি কাটার ভেকু) এবং একটি ভারী ড্রামট্রাক জব্দ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায়ের সরাসরি নেতৃত্বে এ গভীর রাতের অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম নুরুল আখতার নিলয়, সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল এবং ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা।
স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও অধিবাসীদের তীব্র অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে কৃষিজমির উপরিভাগের অতি প্রয়োজনীয় উর্বর মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটা ও ভরাট কাজে চড়া দামে বিক্রি করে আসছে। এর ফলে একদিকে যেমন আবাদি জমির স্বাভাবিক ফসল উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত অনিয়ন্ত্রিত ও ভারী ড্রামট্রাক এবং ট্রাক্টরের অবাধ চলাচলে গ্রামীণ কোটি টাকার পাকা রাস্তাঘাট ভেঙে ধুলিসাৎ হয়ে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জমির উপরিভাগের অর্গানিক ও পুষ্টিসমৃদ্ধ অংশ কেটে নেওয়ার ফলে জমি তার চিরস্থায়ী উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার দরুন সৃষ্ট প্রকাণ্ড খাদের কারণে বর্ষা মৌসুমে সংলগ্ন জমিতে জলাবদ্ধতা ও আশপাশের বাসাবাড়িতে ভাঙনের চরম ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
অভিযানের পর স্বস্তি প্রকাশ করে স্থানীয় কৃষকেরা জানান, "প্রতিটি এলাকাতেই মাটি ও বালি খেকো চক্র অত্যন্ত সক্রিয়। পাগলী খাল এলাকায় প্রশাসনের এ সময়োপযোগী পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে অবৈধ মাটি খেকোদের প্রতিটি সিন্ডিকেটকে গোড়া থেকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে।"
এলাকার সচেতন মহলের দাবি, রাতের আঁধারে চলা এই মাটি দস্যুতা কেবল একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরো জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এর একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের এমন ঝটিকা ও কঠোর অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
প্রতিবেদক: সুমন আহমেদ, কুমিল্লা
