আজকের তারিখ লোড হচ্ছে...
সাম্প্রতিক:
আক্ষরিক নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম...
> অপমৃত্যু

জলঢাকায় পুকুর থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার: ঘাতক নিয়ে মা ও বাবার বিপরীতমুখী দাবি


নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় পুকুরের পানি থেকে খাদিজা নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নালার পাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ফেরদৌস (১৭), রিপন আলী (১৫) ও মিস্টার রহমান পুকুরের প্রায় ছয় ফুট পানির নিচ থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনায় একটি ছোট খাটের ওপর রাখা হয়েছে শিশু খাদিজার নিথর দেহ। স্থানীয়দের উপস্থিতি ও ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো গ্রামজুড়ে শোক ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, দুপুরে শিশুটিকে নিয়ে ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন তৈরির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তার মা রেজিনা বেগম। সাজগোজের একপর্যায়ে হঠাৎ খাদিজাকে দেখতে না পেয়ে মা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। প্রথমে শ্বশুরবাড়ির দিকে গেলেও মেয়েকে না পেয়ে আবার নিজের বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় বাড়ির পাশের বোমা মেশিন দিয়ে খুঁড়ে রাখা একটি গভীর পুকুরে তল্লাশি চালানো হয়। পানির নিচ থেকে শিশুটিকে উদ্ধারের পর স্থানীদের একটি অংশ ধারণা করছেন, অপপ্রভাব বা অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে তার মৃত্যু হতে পারে।

তবে গ্রামবাসীর এই ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত এবং মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন শিশুটির বাবা আজহারুল হক। পেশায় ঢাকার রাজমিস্ত্রি আজহারুল হকের দাবি, পারিবারিক কলহের জের ধরে শিশুটির মা-ই তাকে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে দিয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে নিহত শিশুর চাচা জানান, গত প্রায় দুই মাস ধরে খাদিজার বাবা ও মায়ের মধ্যে তীব্র পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এ কারণে তার মা খাদিজাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে (নানার বাড়ি) অবস্থান করছিলেন।

ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বলেন, "এটি একটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যাই। পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়েছে।"

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদরের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে। শিশুর বাবা ঢাকা থেকে রওনা হয়েছেন, তার লিখিত অভিযোগ ও বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রতিবেদক: সামিনুর ইসলাম, নীলফামারী

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন