বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের ২০ ডিসেম্বর রাতে হলের মূল ফটকে শিক্ষার্থীরা ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা ব্যানার ও নামফলক ঝুলিয়ে দেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভায় শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল’ করার সুপারিশ করা হয়।
তবে ২৯ জুন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে শেখ পরিবারের নামে থাকা স্থাপনাগুলোর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিনেটে সিদ্ধান্ত হয় আগের সব স্থাপনার নাম পূর্বের মতোই বহাল থাকবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সনদ ও অফিশিয়াল নথিপত্রে আগের নাম থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানান, সিনেট অধিবেশনে আগের নাম বহাল রাখার যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ইসরাফিল রতন জানান, শিক্ষার্থীরা নিজেরাই হলের গেটে নাম লিখেছিলেন, যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমোদনপ্রাপ্ত ছিল না। অনুমোদন না থাকায় হল প্রশাসন পূর্বের নামটিই প্রতিস্থাপন করছে।
এদিকে নামফলক সরানোর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদের বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান লিখেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজিব হলের সামনে এসে অনেকে চিনে উঠতে বিভ্রান্ত হন। আজ থেকে আর সেই বিভ্রান্তি থাকবে না, আগের নামটি প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে।" বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও হলটির নাম ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ হিসেবেই নিবন্ধিত রয়েছে।
প্রতিবেদক: ঢাবি প্রতিনিধি
