আজকের তারিখ লোড হচ্ছে...
সাম্প্রতিক:
আক্ষরিক নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম...
> আন্তর্জাতিক

ক্ষমা চাওয়ার সিউলের দাবি প্রত্যাখ্যান: সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের জেরে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

শনিবার সিউল স্টেশনের একটি স্ক্রিনে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পুরোনো ফুটেজ দেখা যাচ্ছে। ছবি: এএফপি

সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার এবং উত্তেজনাকর কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বানকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। শনিবার (৩ অক্টোবর) ফোরাহ্নে দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিয়ংইয়ংয়ের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্ব সাগরের (জাপান সাগর) দিকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। ক্ষেপণাস্ত্রটির সুনির্দিষ্ট ধরণ ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যৌথভাবে বিশ্লেষণ করছে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

ঘটনার সূত্রপাত দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) ঘটা এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে। গত ২১ সেপ্টেম্বর সেখানে টহল পথ পরিষ্কারের সময় মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা সদস্য গুরুতর আহত হন। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডের যৌথ তদন্তে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার সেনাদের সীমান্তে পুঁতে রাখা মাইনের কারণেই এ বিস্ফোরণ ঘটে।

এ ঘটনাকে ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে উত্তর কোরিয়াকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানায় সিউল। একই সঙ্গে সীমান্তে ট্যাংক নিরোধক প্রতিবন্ধক ও নতুন করে মাইন পোঁতার কাজ বন্ধ করার অনুরোধ জানায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

তবে উত্তর কোরিয়া এ ঘটনার দায় শুরু থেকেই সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং সিউলের দাবির তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘ঘৃণ্য’ আখ্যা দিয়ে মাইন বিস্ফোরণের অভিযোগ সরাসরি উড়িয়ে দেন। এরপরই শনিবার ভোরে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে নিজেদের অনড় অবস্থানের শক্ত বার্তা দিল পিয়ংইয়ং।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়াকে নিজ দেশের ‘প্রধান শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকে সীমান্ত এলাকা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার কাজ শুরু করে পিয়ংইয়ং। এর অংশ হিসেবেই সীমান্তজুড়ে বিপুল পরিমাণ স্থলমাইন পুঁতে রাখা ও প্রথাবিরোধী সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিউলের কূটনৈতিক আলোচনা ও উত্তেজনা কমানোর প্রস্তাবের জবাবে শক্তি প্রদর্শন করে পিয়ংইয়ং স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল—তারা সমঝোতা নয়, বরং সংঘাতের পথেই হাঁটতে ইচ্ছুক। সার্বিক পরিস্থিতিতে সীমান্তে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অস্থিরতা ও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক ডেস্ক

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন