পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক ব্যাধি ও নীতিবাক্য সংবলিত এসব নজরকাড়া সচেতনতামূলক বার্তা কোনো বড় সামাজিক সংগঠন বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে টাঙানো হয়নি। উত্তর ঘোগারকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মেসবাহুল ইসলাম মুগ্ধের একক চিন্তা, শ্রম ও সৃজনশীলতায় বদলে গেছে এই গ্রামীণ সড়কের চিত্র।
মুগ্ধ ফুলবাড়ী উপজেলার ঘোগারকুটি গ্রামের বিদ্যালয় শিক্ষক সুজাউদ্দৌলা ও গৃহিণী মমতা বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। বাড়িতে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত কার্টন ও খাতার পাতা আঠা দিয়ে জোড়া লাগিয়ে নিজ হাতে এসব প্ল্যাকার্ড তৈরি করে সে। বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে সুতা ও মই ব্যবহার করে রাস্তার পাশের গাছগুলোতে তা টাঙিয়ে দেয়।
মুগ্ধ জানায়, "শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক আমাদের প্ল্যাকার্ড তৈরি ও এর ব্যবহার শিখিয়েছিলেন। তা থেকেই আমার এই চিন্তা। আমাদের এলাকায় অনেকেই মাদক সেবন করে এবং পরিবেশ রক্ষায় অসচেতন। আমার লেখা প্ল্যাকার্ড দেখে যদি একজন মানুষও সচেতন হয়, তবেই আমার চেষ্টা সার্থক।"ছেলের এই ব্যতিক্রমী সামাজিক ভাবনায় আপ্লুত মুগ্ধের বাবা, শাহবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুজাউদ্দৌলা। তিনি বলেন, "স্কুল থেকে ফেরার পথে গাছে গাছে প্ল্যাকার্ড দেখে প্রথমে অবাক হয়েছিলাম। পরে যখন জানলাম এটি আমার ১০ বছরের ছেলের কাজ, তখন আবেগ ধরে রাখতে পারিনি। বড় হয়েও যেন ওর এই মানবিক ও সামাজিক চিন্তা অটুট থাকে, সেই দোয়া করি।"
পরিবেশ ও সংস্কৃতিকর্মী অধ্যক্ষ নূর মোহাম্মদ মিয়া বলেন, "শিশুদের এমন জনকল্যাণমূলক সামাজিক উদ্যোগে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করা প্রয়োজন। মুগ্ধের মতো নতুন প্রজন্মই জ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে আগামীর বাংলাদেশকে বদলে দেবে।"
১০ বছর বয়সী মুগ্ধের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে—সমাজ বদলাতে বা সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে বড় কোনো বয়সের প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন কেবল একটি সুন্দর চিন্তা ও তা বাস্তবায়নের দৃঢ় ইচ্ছা।
প্রতিবেদক: অনিল চন্দ্র রায়, কুড়িগ্রাম
